সংবাদ শিরোনাম:
ভূরুঙ্গামারীতে ১০৩ পিস ইয়াবাসহ মাদক সম্রাজ্ঞী মর্জিনা গ্রেফতার ভূরুঙ্গামারীতে গাঁজা চাষ,পুলিশের অভিযানে অর্ধশতাধিক গাছ উদ্ধার ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ, আটক ১ ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ ভূরুঙ্গমারীতে সুপারি বাগানে গাঁজা চাষ, অভিযান চালিয়ে চারটি গাঁজা গাছ জব্দ ভূরুঙ্গামারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল বিতরণ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস ২০২৬ পালিত নেদারল্যান্ডসে ‘ক্লাইমেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে খুবি দেবীগঞ্জে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নির্মাণ কাজের ধীরগতি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত
দেবীগঞ্জে রাস্তা সম্প্রসারণ নিয়ে সংঘর্ষ: পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গুরুতর আহত

দেবীগঞ্জে রাস্তা সম্প্রসারণ নিয়ে সংঘর্ষ: পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গুরুতর আহত

মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি,,

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নেতা হলেন দেবীগঞ্জ পৌর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কার্তিক রায় বাবু (৩৮)। তিনি কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নারায়ণ রায়ের ছেলে।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাতপাড়া এলাকায় বাজারসংলগ্ন পিলুর কাঠের মিলের পাশে হানিফুরের চায়ের দোকানে প্রথমে মারামারির সূত্রপাত হয়। পরে তা আলমের চটপটির দোকানের সামনে গড়ায় এবং সেখানে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।

কামাত পাড়া এলাকার বাসিন্দা হরিপদ রায়ের মেয়ের জামাই বিকাশ রায়, তার স্ত্রী পপি রানি এবং শালা সোহাগের সঙ্গে কার্তিক রায় ও তার মামাতো ভাই প্রীতম রায়ের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কার্তিক রায় গুরুতর আহত হন এবং একটি চটপটির দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। অভিযুক্ত বিকাশ রায় দেবীগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় কার্তিক রায় বাবুকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় আঘাতজনিত সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মারামারির ঘটনায় উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী মুসলিম জানান, ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারত এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাড়ির পাশে চলাচলের গলির রাস্তা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর দুই পক্ষই থানায় আসে। আহত কার্তিক রায়কে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযুক্ত বিকাশ রায় ও সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানার হেফাজতে নিয়েছে।

ভুক্তভোগী কার্তিক রায় জানান, প্রতিবেশীদের মধ্যে চলাচলের রাস্তা প্রশস্ত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় বিকাশ রায় ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন রাস্তা আরও বড় করার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, বিকাশ রায় ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বসতবাড়ির জমি বিক্রি করে ভারতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে তারা আমাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা আরও প্রশস্ত করার দাবি করেন, যাতে তাদের বাড়ির ভিটা বেশি দামে বিক্রি করা যায়। আমরা প্রতিবেশীরা চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা করে দিতে সম্মত ছিলাম। তবে আমার শর্ত ছিল, রাস্তার জন্য আমার পাকা ঘরটি ভেঙে দিলে সেটি পুনরায় নির্মাণ করে দিতে হবে। কিন্তু বিকাশ রায় ও তার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে রাস্তা আরও প্রশস্ত করার দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তারা আমাদের প্রস্তাবে রাজি হননি। একপর্যায়ে এই বিরোধের জেরে তারা ঘটনা তিন রাতে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, হত্যার উদ্দেশ্যে। তিনি আরও বলেন, বিকাশ রায় বাড়ি নির্মাণের জন্য ইট কিনে পরে সেগুলো আবার বিক্রি করে দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সে হিন্দুদের ভারতে চলে যেতে উৎসাহিত করে। তার এসব কর্মকাণ্ড দেখে অনেকে মনে করেন, সে ভারতের পক্ষে কাজ করছে এবং বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

অভিযুক্ত, বিকাশ রায় এ বিষয়ে বলেন, গলির রাস্তা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে কার্তিকের কাকাতো ভাই নিতাই রায় ঘটনার দিন রাতে মোবাইল ফোনে তাকে ডেকে নিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি কার্তিক রায়ের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে কার্তিক রায় তাকে দুইটি থাপ্পড় মারেন। এরপর আশপাশের লোকজন কার্তিককে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় চায়ের দোকানের র‍্যাকে তার মাথা লেগে কেটে যায়।
ঘটনার সময় বিকাশ রায়ের শালা সোহাগ এবং স্ত্রী রাধিকা রায় পপিকে কার্তিক ও তার মামাতো ভাই প্রীতম রায় লাঞ্ছিত করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিকাশ রায় আরও জানান, কার্তিকের পরিবার চলাচলের সুবিধার জন্য কিছু জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও পরে তা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ায় বিরোধ আরও বেড়ে যায়। এ বিষয়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে জামায়াত নেতা মশিউর রহমানের কাছে কিছু টাকা জমা রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিকাশ রায় সেই টাকা ফেরত নেওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কার্তিক রায়ের চাচাতো বোনজামাই বিকাশ রায়। এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে অনেকেই বিরোধী ও রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন।

দেবীগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, ওই এলাকাবাসী তাঁর কাছে চলাচলের রাস্তার সমস্যার কথা নিয়ে আসেন। তিনি তাদের কথা শুনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে এলাকাবাসী বিকাশ রায়, নিতাই রায়সহ ভুক্তভোগীরা চাঁদা তুলে তাঁকে ২৭ হাজার টাকা প্রদান করেন। কার্তিক রায়ের দাবি ছিল, রাস্তা নির্মাণ করা হলে তাঁদের পাকা বাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পুনর্নির্মাণ ও পিলার স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এ পরিস্থিতিতে মশিউর রহমান তাঁদের সঙ্গে সমঝোতায় সম্মত হন এবং সেই সূত্রে সংগৃহীত অর্থ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, কার্তিক রায়ের পরিবার রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জমির মাত্র অর্ধেক ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। এতে ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা হবে না। তখন তিনি তাঁর পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে গ্রহণ করা টাকা ফেরত দেন। ঘটনার দিন চায়ের দোকানে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় কার্তিক রায় অভিযোগ করেন, বিকাশ রায় দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছেন। তবে মশিউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে বিকাশ রায় তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা বলেননি। তিনি মনে করেন, টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ মার

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com